বর্তমানে বাংলাদেশে পাইলস খুব পরিচিত একটি রোগের নাম। যে কোনো বয়সের
নারী ও পুরুষের এ রোগ হতে পারে।
পাইলস এর চিকিৎসা; পাইলস থেকে চিরতরে মুক্তির উপায়গুলো
জানা থাকলে প্রাথমিক অবস্থায় রোগটি থেকে নিরাময় পাওয়া যায়।
অন্যথায় জটিল হয়ে গেলে এটি থেকে পরিত্রাণ পেতে অপারেশন করতে হয়।
সঠিক সময়ে পাইলসের সঠিক চিকিৎসা করতে হলে জানতে হবে পাইলস কী? পাইলসের
লক্ষণ, এ রোগে কী কী সমস্যা হয় ও এর প্রতিকারগুলো কী? এ ব্লগে এসব
বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। চলুন তাহলে শুরু করা যাক।
পাইলসের ব্যথা, রক্তপাত বা মলদ্বারে গুটি নিয়ে চিন্তিত? সমস্যা
লুকিয়ে না রেখে অভিজ্ঞ কোলোরেক্টাল সার্জন
ডাঃ তারিক আখতার খানের পরামর্শ নিন। সঠিক পরীক্ষা, রোগ
নির্ণয় ও নিরাপদ চিকিৎসার মাধ্যমে পাইলস নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাই আর
দেরি না করে আজই পরামর্শ নিন এবং জটিলতা থেকে দূরে থাকুন।
পাইলস বা অর্শরোগ
(Hemorrhoids) হলো মলদ্বার ও মলাশয়ের নিচের অংশের রক্তনালি ফুলে
যাওয়া বা বড় হয়ে যাওয়ার একটি সমস্যা। গ্রাম বাংলায় এ রোগটি
অর্শরোগ নামে পরিচিত। চিকিৎসা ভাষায় একে হেমোরয়েডস বলা হয়। এটি
মলদ্বারের ভেতরে হতে পারে, আবার মলদ্বারের বাইরের দিকেও হতে পারে।
সাধারণত কোষ্ঠকাঠিন্য, মলত্যাগের সময় বেশি চাপ দেওয়া, দীর্ঘ সময়
টয়লেটে বসে থাকা, কম আঁশযুক্ত খাবার, গর্ভাবস্থা, অতিরিক্ত ওজন, বা
দীর্ঘদিনের পেটের চাপের কারণে পাইলস হতে পারে। অনেক সময় পাইলস থাকলেও
শুরুতে তেমন ব্যথা থাকে না, কিন্তু মলত্যাগের সময় টাটকা লাল রক্ত,
চুলকানি, অস্বস্তি, মিউকাস, মলদ্বারের পাশে ফোলা বা গুটি দেখা দিতে
পারে।
পাইলসের চিকিৎসা
পাইলসের ধরনের উপর ভিত্তি করে পাইলসের চিকিৎসা করা হয়। পাইলস দুই ধরনের
হয়।
ভিতরের পাইলস: ভিতরের পাইলস হল মলদ্বারের ভিতরে রক্তনালী ফুলে
যাওয়া। রক্তনালী থেকে রক্তপিন্ড কতখানি বের হয়ে আসে তার উপর ভিত্তি
করে এ ধরনের পাইলসকে ১ম,২য়,৩য় ও ৪র্থ ডিগ্রীতে ভাগ করা হয়।
বাহিরের পাইলস: মলদ্বারের বাইরের চামড়া দ্বারা আবৃত থাকে। এর
মধ্যে রক্ত জমাট বাধলে তা ফুলে ওঠে।
পাইলসের প্রাথমিক চিকিৎসা
পাইলসের প্রাথমিক চিকিৎসা সাধারণত ব্যথা, রক্তপাত, চুলকানি ও
কোষ্ঠকাঠিন্য
কমানোর দিকে লক্ষ্য করে করা হয়। হালকা পাইলস অনেক সময় খাবার,
টয়লেটের অভ্যাস ও কিছু ঘরোয়া যত্নে নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে রক্তপাত
বারবার হলে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি। পাইলসের প্রাথমিক চিকিৎসার
ক্ষেত্রে যা করবেন:
মল নরম রাখুন: কোষ্ঠকাঠিন্য পাইলস বাড়িয়ে দেয়। তাই
শাকসবজি, ফল, ডাল, ওটস, লাল আটা, ইসবগুলের ভুসি জাতীয় আঁশযুক্ত
খাবার খাওয়া ভালো। আঁশ মল নরম করতে সাহায্য করে এবং মলত্যাগের সময়
চাপ কমায়।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন: দিনে পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার খেলে
মল শক্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে। আঁশযুক্ত খাবার খেলে পানি আরও দরকার হয়,
না হলে গ্যাস বা অস্বস্তি হতে পারে। Mayo Clinic সাধারণভাবে দিনে ৬–৮
গ্লাস পানি বা তরল খাবারের কথা বলে, তবে ব্যক্তিভেদে প্রয়োজন ভিন্ন
হতে পারে।
টয়লেটে চাপ দেবেন না: মলত্যাগের সময় জোরে চাপ দেওয়া,
অনেকক্ষণ বসে থাকা, বা মোবাইল নিয়ে দীর্ঘ সময় টয়লেটে থাকা পাইলসের
সমস্যা বাড়াতে পারে। মল না এলে জোর না করে পরে চেষ্টা করা ভালো।
কুসুম গরম পানিতে বসুন: ব্যথা, জ্বালাপোড়া বা চুলকানি থাকলে
দিনে ১–২ বার ১০–১৫ মিনিট কুসুম গরম পানিতে বসা উপকার দিতে পারে। একে
সিটজ বাথ বলা হয়। NHS গরম পানিতে বসাকে চুলকানি ও ব্যথা কমানোর সহজ
উপায় হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ঠান্ডা সেঁক দিতে পারেন: মলদ্বারের পাশে ফোলা বা ব্যথা থাকলে
পরিষ্কার কাপড়ে মোড়ানো বরফের প্যাক অল্প সময়ের জন্য ব্যবহার করা
যায়। সরাসরি বরফ লাগানো উচিত নয়।
জায়গা পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন: মলত্যাগের পর জায়গাটি জোরে
ঘষবেন না। পানি দিয়ে পরিষ্কার করে নরম কাপড় বা টিস্যু দিয়ে
আলতোভাবে শুকিয়ে নিন। এতে চুলকানি ও জ্বালা কমতে পারে।
প্রয়োজন হলে ওষুধ ব্যবহার করুন: ব্যথা হলে প্যারাসিটামল
নেওয়া যেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে পাইলসের ক্রিম, সাপোজিটরি, স্টুল
সফটনার বা ফাইবার সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হয়। তবে রক্তপাত, গর্ভাবস্থা,
দীর্ঘদিনের সমস্যা, বা অন্য রোগ থাকলে নিজে নিজে ওষুধ না খেয়ে
চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
পাইলসের ঘরোয়া চিকিৎসা / কী খেলে
পাইলস ভালো হয়?
পাইলস থেকে মুক্তি পেতে ঘরোয়া কিছু চিকিৎসা রয়েছে। এ চিকিৎসাগুলো যত্ন
সহকারে করা হলে ঘরে বসেই পাইলস থেকে নিরাময় পাওয়া সম্ভব। চিকিৎসাগুলো
হলো:
বেশি করে শাক-সবজি ও আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া
নিয়মিত ইসবগুলের ভুসি খাওয়া
পাকা বেলের শরবত খাওয়া
উষ্ণ গরম পানিতে সেঁক নেওয়া
পায়ুপথে পিচ্ছিল পদার্থ ব্যবহার করা
পাইলস থেকে চিরতরে মুক্তির উপায়
‘পাইলস এর চিকিৎসা; পাইলস থেকে চিরতরে মুক্তির উপায়’ এ ব্লগ থেকে
অধিকাংশ পাঠক আশা করেন এমন টিপস ও উপায়ের যেগুলোর মাধ্যমে পাইলস থেকে
চিরতরে মুক্তি পাওয়া যাবে। পাঠকের জন্য সে উপায়গুলো নিচে তুলে ধরা
হচ্ছে:
ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার: প্রতিদিনি শাক সবজি, ফলমূল,
মটরশুটি ও ডাল ইত্যাদি খাবার খাওয়া। ফাইবারযুক্ত খাবার খেলে পায়খানা
স্বাভাবিক থাকে এবং পাইলস থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
পানি পান বৃদ্ধি: প্রতিদিন প্রয়োজনমত পানি পান করতে
হবে। পাইলসের চিকিৎসায় অন্যতম জরুরী বিষয় হলো প্রচুর পানি পান করা।
চা-কফি ও কোমল পানীয় পান করা থেকে বিরত থাকা।
ইসবগুলে ভুসি: প্রতিদিন সকালে নিয়মিত ইসবগুলের ভুসি
পানিতে মিশিয়ে পান করলে পায়খানা স্বাভাবিক থাকে। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য ও
পাইলস থেকে মুক্ত থাকা যায়। বেশি পরিমাণে ইসবগুলের ভুসি খেলে পেটে
গ্যাসের সমস্যা ও ব্যাথা হতে পারে। তাই প্রয়োজনমত খাওয়া।
খাঁটি ঘি: অনেকের ধারণা প্রতিদিন পরিমাণমত ঘি খেলে
পাইলস থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এর কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নাই।
টয়লেটে কম সময় ব্যয়: টয়লেটে গিয়ে অনেকে প্রচুর সময়
ব্যয় করে, এটা উচিৎ নয়। স্বস্তি মেলে এ পরিমাণ পায়খানা হয়ে গেলে
টয়লেট থেকে বের হয়ে যাওয়া উচিত।
পাইলস এর প্রাথমিক লক্ষণ / পাইলস
হলে কি কি সমস্যা হয়?
কিছু লক্ষণ আছে যেগুলো দেখে বুঝা যায় যে একজন মানুষ পাইলসে আক্রান্ত।
নিচে লক্ষণগুলো লিস্ট আকারে তুলে ধরা হলো:
মলদ্বার থেকে রক্ত পড়া
মলদ্বারে চুলকানি
মলদ্বার ও আশপাশে যন্ত্রণাদায়ক পিন্ড
পায়খানা করার সময় ও পরে অস্বস্তি
যেসব কারণে পাইলস হয়
পাইলস এর চিকিৎসা; পাইলস থেকে চিরতরে মুক্তির উপায় ব্লগ থেকে অনেকের
জানার আগ্রহ থাকে, পাইলস কেন হয়? পাইলসের কারণগুলো নিচে উল্লেখ করা
হলো:
দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য
বারবার ডায়রিয়া
টয়লেটে বেশি সময় ব্যয়
পুষ্টিকর খাবার না খাওয়া
শরীরের অতিরিক্ত ওজন
পায়খানার সময় জোরে চাপ দেওয়া
পায়খানার বেগ আটকে রাখা
শারীরিক পরিশ্রম না করা
পায়ুপথে সহবাস
পাইলস বা হেমোরয়েড নির্ণয়
পাইলস এর চিকিৎসা; পাইলস থেকে চিরতরে মুক্তির উপায় হিসেবে যখন কোনো
রোগী কলোরেকটাল সার্জনের শরণাপন্ন হয়, চিকিৎসক দুইভাবে রোগটি নির্ণয়
করেন।
শারীরিক পরীক্ষা: বাহ্যিক পাইলসের ক্ষেত্রে চোখে দেখেই রোগ
নির্ণয় করা হয়। অভ্যন্তরীণ পাইলসে লুব্রিকেটেড আঙ্গুল ও গ্লাভড
মলদ্বারে ঢুকিয়ে রোগ নির্ণয় করে থাকেন চিকিৎসক।
স্কোপিক/ভিজ্যুয়াল পরিদর্শন:
প্রোক্টোস্কোপ/অ্যানাস্কোপ/সিগমায়েডোস্কেপ নামক যন্ত্র ব্যবহার করে
অভ্যন্তরীণ অর্শ্বরোগ পরীক্ষা করা হয়।
পাইলসের সমস্যায় কি কি খাবার
খাওয়া নিষেধ?
পাইলস সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে যেসব খাবার পরিহার করতে হবে, সে
খাবারগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
লাল মাংস
দুগ্ধজাত খাবার
তেলে ভাজা খাবার
মশলাদার খাবার
কফি ও চা
অ্যালকোহল
কোমল পানীয়
বাদাম
পাইলস বিষেশজ্ঞ কারা?
পাইলস বিশেষজ্ঞ বলতে সাধারণত সেই চিকিৎসককে বোঝায়,
যিনি মলদ্বার, মলাশয় ও বৃহদান্ত্রের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা করেন।
পাইলসের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত বিশেষজ্ঞ হলেন
কোলোরেক্টাল সার্জন বা প্রক্টোলজিস্ট। তাঁরা পাইলস,
ফিশার, ফিস্টুলা, মলদ্বারের রক্তপাত, ব্যথা, গুটি, পুঁজ, কোলন-রেকটামের
রোগ ইত্যাদি চিকিৎসা করেন।
পাইলস,
ফিশার,
ফিস্টুলা,
মলদ্বারের রক্তপাত,
ব্যথা বা গুটি নিয়ে দীর্ঘদিন ভুগলে অনুমাননির্ভর চিকিৎসা না নিয়ে
একজন অভিজ্ঞ কোলোরেক্টাল সার্জনের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ডাঃ তারিক
আখতার খান বাংলাদেশের একজন অভিজ্ঞ
পাইলস ও কোলোরেক্টাল সার্জন, যিনি দীর্ঘদিন ধরে মলদ্বার, মলাশয় ও বৃহদান্ত্রের জটিল রোগের
চিকিৎসা দিয়ে আসছেন।
তিনি এমবিবিএস, এফসিপিএস, এমএস এবং এফআরসিএস ডিগ্রিধারী একজন বিশেষজ্ঞ
চিকিৎসক। তিনি মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যাপক এবং বিএমইউ,
পূর্বের বিএসএমএমইউ/পিজি হাসপাতাল, সার্টিফায়েড মাস্টার কোলোরেক্টাল
সার্জন। কোলোরেক্টাল সার্জারিতে তাঁর ১৬ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে।
ডাঃ তারিক আখতার খান
৯০০০টির বেশি মলদ্বার ও রেকটাল সার্জারি এবং
৮৫০টির বেশি কোলোরেক্টাল ক্যান্সার সার্জারির অভিজ্ঞতা অর্জন
করেছেন। তিনি ধানমন্ডি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ইমপালস হাসপাতাল এবং
সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিফ কনসালটেন্ট হিসেবে রোগী দেখেন।
কেন
ডাঃ তারিক আখতার খানের পরামর্শ
নেবেন?
পাইলসের সমস্যা লুকিয়ে রাখবেন না। রক্তপাত, ব্যথা, গুটি বা মলত্যাগে
অস্বস্তি থাকলে সময়মতো একজন অভিজ্ঞ পাইলস বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা: কোলোরেক্টাল সার্জারিতে ১৬ বছরের বেশি
অভিজ্ঞতা থাকায় তিনি পাইলস, ফিশার, ফিস্টুলা ও মলদ্বারের জটিল রোগের
সঠিক মূল্যায়ন করতে পারেন।
বিশেষায়িত চিকিৎসা: তিনি পাইলস ও মলদ্বারের রোগের চিকিৎসায়
বিশেষ অভিজ্ঞ। তাই রোগের ধরন বুঝে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা
পরিকল্পনা করা হয়।
উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতি: রোগীর অবস্থা অনুযায়ী ওষুধ,
জীবনযাপনের পরিবর্তন, আধুনিক পদ্ধতি বা সার্জিক্যাল চিকিৎসার
প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা হয়।
সম্পূর্ণ রোগীসেবা: শুধু লক্ষণ দেখে চিকিৎসা নয়, বরং
পরীক্ষা, রোগ নির্ণয়, ঝুঁকি বোঝা এবং রোগীর জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা
পরিকল্পনা করা হয়।
রোগীকেন্দ্রিক পরামর্শ: তিনি রোগীর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন,
সমস্যা বুঝে ব্যাখ্যা করেন এবং চিকিৎসার প্রতিটি ধাপে রোগীকে
সঠিকভাবে গাইড করেন।
রোগীদের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা: অনেক রোগী তাঁর চিকিৎসা, পরামর্শ ও
সার্জারির পর ভালো অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
পাইলস চিকিৎসায় হাতুড়ে ও
কবিরাজি চিকিৎসা থেকে দূরে থাকুন
পাইলস নিয়ে লজ্জা বা ভয় থেকে অনেকেই হাতুড়ে চিকিৎসা, কবিরাজি ওষুধ,
অজানা মলম, তেল বা ভুল পদ্ধতির দিকে ঝুঁকে পড়েন। এতে সাময়িকভাবে আরাম
মনে হলেও ভেতরের সমস্যা থেকে যেতে পারে, বরং অনেক সময় রক্তপাত,
ইনফেকশন, ব্যথা, পুঁজ, ক্ষত বা জটিলতা বেড়ে যায়।
মলদ্বার দিয়ে রক্ত পড়লেই সেটি শুধু পাইলস, এমন ধারণা করা নিরাপদ নয়।
ফিশার, ফিস্টুলা, পলিপ, প্রদাহ, এমনকি মলাশয় বা বৃহদান্ত্রের গুরুতর রোগেও
একই ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তাই অনুমান করে চিকিৎসা না নিয়ে একজন
অভিজ্ঞ পাইলস বিশেষজ্ঞ, কোলোরেক্টাল সার্জন বা প্রক্টোলজিস্টের পরামর্শ
নেওয়া উচিত।
বিশেষ করে বারবার রক্তপাত, তীব্র ব্যথা, মলদ্বারে গুটি, পুঁজ, জ্বর,
দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য, ওজন কমে যাওয়া বা ৪০ বছরের বেশি বয়সে নতুন
করে রক্তপাত শুরু হলে দেরি করা ঠিক নয়। সঠিক পরীক্ষা, সঠিক রোগ
নির্ণয় এবং নিরাপদ চিকিৎসাই পাইলস থেকে ভালোভাবে সুস্থ হওয়ার সবচেয়ে
ভরসাযোগ্য পথ।
পাইলসে অবহেলা নয়, সময়মতো
চিকিৎসা নিন
পাইলস অনেকের কাছে সাধারণ সমস্যা মনে হলেও দীর্ঘদিন অবহেলা করলে
রক্তপাত, ব্যথা, ফুলে যাওয়া, ইনফেকশন বা মলত্যাগে বেশি অস্বস্তি তৈরি
হতে পারে। আবার মলদ্বার দিয়ে রক্ত পড়লেই সেটি শুধু পাইলস, এমন ধরে
নেওয়াও ঠিক নয়। তাই লক্ষণ দেখা দিলে লজ্জা বা ভয় না পেয়ে সময়মতো
একজন অভিজ্ঞ পাইলস বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক পরীক্ষা ও
চিকিৎসা শুরু করলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পাইলস নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং
জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
পাইলসের চিকিৎসা নিয়ে অনেকের মনে ভয় ও ভুল ধারণা থাকে। অপারেশন
লাগবে কি না, রক্তপাত হলে কী করবেন, কোন খাবার খাবেন বা কখন বিশেষজ্ঞ
দেখাবেন, এসব প্রশ্নের সঠিক উত্তর জানা জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা নিলে
পাইলস বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
পাইলস কতদিনে সারে, তা রোগের ধরন ও তীব্রতার ওপর নির্ভর করে।
হালকা পাইলস হলে খাবারে আঁশ বাড়ানো, পর্যাপ্ত পানি পান,
কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ন্ত্রণ, কুসুম গরম পানিতে বসা এবং টয়লেটে
চাপ না দেওয়ার মাধ্যমে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে
উপসর্গ কমতে পারে। তবে রক্তপাত, ব্যথা বা গুটি বারবার হলে
চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার।
অনেক ক্ষেত্রে হালকা হেমোরয়েডস নিজে নিজে বা সাধারণ যত্নে
ভালো হতে পারে। তবে কারণ যদি থেকে যায়, যেমন কোষ্ঠকাঠিন্য,
দীর্ঘ সময় টয়লেটে বসে থাকা বা বেশি চাপ দেওয়া, তাহলে আবার
সমস্যা ফিরে আসতে পারে। এক সপ্তাহের বেশি উপসর্গ থাকলে, বা
রক্তপাত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
সব হেমোরয়েডসের জন্য অপারেশন লাগে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে
খাবার, জীবনযাপনের পরিবর্তন, ওষুধ বা ছোট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে
চিকিৎসা করা যায়। তবে বড় পাইলস, বাইরে বের হয়ে থাকা পাইলস,
অতিরিক্ত রক্তপাত, তীব্র ব্যথা, বা অন্য চিকিৎসায় ভালো না হলে
অপারেশন বা আধুনিক সার্জিক্যাল চিকিৎসা লাগতে পারে। Mayo
Clinic অনুযায়ী, হেমোরয়েডসের ক্ষেত্রে অল্প সংখ্যক রোগীরই
সার্জারি প্রয়োজন হয়।
হ্যাঁ, গর্ভাবস্থায় হেমোরয়েডস হতে পারে। এ সময় শরীরের চাপ,
কোষ্ঠকাঠিন্য, হরমোনের পরিবর্তন এবং মলদ্বারের শিরায় চাপ
বাড়ার কারণে পাইলস দেখা দিতে পারে। গর্ভাবস্থায় নিজে নিজে
ওষুধ ব্যবহার না করে চিকিৎসক বা গাইনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
নেওয়া ভালো। সাধারণত আঁশযুক্ত খাবার, পানি, হালকা ব্যায়াম,
দীর্ঘ সময় বসে বা দাঁড়িয়ে না থাকা এবং কুসুম গরম পানিতে বসা
উপসর্গ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
পাইলস হলে মলত্যাগের সময় টাটকা লাল রক্ত পড়তে পারে। তবে
মলদ্বার দিয়ে রক্ত গেলেই সেটি শুধু পাইলস, এমন ধরে নেওয়া ঠিক
নয়। ফিশার, পলিপ, প্রদাহ বা অন্ত্রের অন্য সমস্যাতেও রক্ত
যেতে পারে, তাই বারবার রক্তপাত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া
জরুরি।
পাইলস থাকলে অতিরিক্ত ঝাল, ভাজাপোড়া, ফাস্ট ফুড, কম আঁশযুক্ত
খাবার এবং যেসব খাবারে কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়ে সেগুলো কম খাওয়া
ভালো। এর বদলে শাকসবজি, ফল, ডাল, লাল আটা, ইসবগুলের ভুসি ও
পর্যাপ্ত পানি মল নরম রাখতে সাহায্য করে।
সতর্কতাঃ
ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যসমূহ শুধুমাত্র সচেতনতা ও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনোভাবেই চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। চিকিৎসা সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন।
পাইলসের সমস্যা? আজই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন!
পাইলসের ব্যথা বা রক্তপাত হলে সমস্যা লুকাবেন না, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
নিন!
Learn about anal discharge causes, symptoms, and treatment in Bangladesh. Understand when to see a specialist and how early care prevents complications.